ঢাকা, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর):
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক “জুলাই জাতীয় সনদ” স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এই সনদে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস অনুষ্ঠানে বলেন,
“এই সনদ রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। বাংলাদেশের জনগণই হবে এই পরিবর্তনের আসল নায়ক।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং বিদেশি কূটনীতিকরা।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১২টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
সনদের মূল প্রতিশ্রুতি:
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন
দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের সুরক্ষা
রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপভিত্তিক সংস্কৃতি গঠন
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে “জুলাই জাতীয় সনদ” স্বাক্ষর পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণ প্লাজা জুড়ে তখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল একটাই আহ্বান—
“ঐক্যে শক্তি, গণতন্ত্রে মুক্তি।”


